ইসলাম ছেড়ে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করলেন ইন্দোনেশিয়ার (Indonesia) প্রথম রাষ্ট্রপতির মেয়ে সুকমাবতী সুকার্নো পুত্রি । গত মঙ্গলবার সনাতন ধর্মে স্থানান্তরিত হন সুকমাবতী ।

মিডিয়া মাধ্যমে জানা গিয়েছে, গত মঙ্গবার ‘সুধি ওয়াধানি’ নামের একটি হিন্দু অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেন ৬৯ বছরের সুকমাবতী । বালিতে সুকার্নো সেন্টার হেরিটেজ হোটেলে ওই অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানা যায় ।

সূত্রের খবর, সুকমাবতীর এই ধর্ম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের মুলে রয়েছেন তাঁর ঠাকুমা / দাদিমা ইদা আয়ু নিওমান রাই শ্রিমবেন । ইন্দোনেশিয়ার অন্যতম প্রধান একটি প্রদেশ হলো বালি । আর বালিতে সংখ্যা গরিষ্ঠ হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায় । তবে হিন্দু সম্প্রদায় বা ধর্মের মধ্যেও রয়েছে অনেক পার্থক্য । এদের হিন্দু ধর্ম আর ভারতের হিন্দু ধর্ম এর মাঝে রয়েছে কিছুটা পার্থক্য ।

সুকমাবতীর আইনজীবন বলেন,

সুকমাবতী এই ধর্ম পরিবর্তন বিষয়টি নিয়ে অনেক পড়াশোনা করেছেন । আর অন্য দিকে হিন্দু ধর্ম শাস্ত্র নিয়ে তার অনেক জ্ঞানও রয়েছে । সে হিন্দু শাস্ত্রের ওপর অনেক বিশ্বাসী । সুকমাবতীর এই সিদ্ধান্তে আসার পড়ে ওনার পরিবারের লোকেরাও ওনার পাশে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন

কোটের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করতে পারবে না ফ্রী ফায়ার

ব্যারিস্টারের বউ হিসাবে এখন সালমা

অপু বিশ্বাসের রেট মাত্র ১১ হাজার টাকা !

দীর্ঘ নয় বছর পর বাবা খুঁজে পেলেন তার ছেলেকে

সুকমাবতী প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি সুকার্নোর তৃতীয় কন্যা । অর্থাৎ ইন্দোনেশিয়ার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মেগাবতী সুকার্নোপুত্রির ছোট বোন সে । বছর সত্তরের কাছ কাছি এবং সুকমাবতী ইন্দোনেশিয়াতেই থাকেন । ২০১৮ সালে এক মুসলিম মৌল বাদী সংগঠন সুকমাবতীর বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম অবমাননা এবং খারাপ বলার অভিযোগ তুলেছিল । বলে রাখা ভালো যে, সুকমাবতী একটি কবিতা পড়েছিলেন, আর সেই নিয়েই মৌলবাদীরা তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননা এবং সহিংসতার করার অভিযোগ তুলেছিল । এই ঘটনার পর সুকমাবতী নিজের কবিতার জন্য ক্ষমাও চেয়ে নিয়েছিলেন মুসলিম বিশ্বের কাছে। যদিও, এর পরেও তাঁকে নিয়ে বিতর্ক থামেনি আর সময়ে সময়ে ওনাকে নিয়ে সমালোচনা হতে থাকে এবং এখনও হচ্ছে।

এখানে উল্লেখ্য যে, মুসলিম প্রধান দেশ হচ্ছে ইন্দোনেশিয়া । এবং ইন্দোনেশিয়ার জাতির জনক এবং প্রথম প্রেসিডেন্ট ছিলেন সুকার্নো । স্বাধীনতার পর দেশটিকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে তাঁর অবদান অসামান্য যা বলে প্রকাশ করা যাবে নাহ । ইন্দোনেশিয়ার রাজনীতিতে আজও অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং ক্ষমতাধর হচ্ছে সুকার্নো পরিবার । ফলে সুকমাবতীর এহেন সিদ্ধান্ত তাৎপর্য পূর্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.