মেথি রান্না-বান্না থেকে শুরু করে প্রসাধনীর যাবতীয় কাজে ব্যবহার করা হয়! আমাদের প্রিয় পাঁচফোড়ণের একটা উপাদান হলো মেথি। পাঁচফোড়ণ খাবারের সাদ বৃদ্ধি করে।

মেথির বীজগুলি দেখতে ছোট ছোট এবং সোনালি রঙের। মেথির মধ্যে থিয়ামিন, ফলিক অ্যাসিড, রিবোফ্লাভিন, নিয়াসিন, ভিটামিন-এ, এবং ভিটামিন-সি পরিপূর্ণ। মেথির মধ্যে নানারকম প্রয়োজনীয় মিনারেল রয়েছে।

এক চামচ মেথির বীজে পুষ্টিগুণ রয়েছে-
১. প্রোটিনঃ ৩ গ্রাম
২. ফ্যাটঃ ১ গ্রাম
৩. ফাইবারঃ ৩ গ্রাম
৪. ক্যালরিঃ ৩৫ ক্যালরি
৫. ম্যাগনেসিয়ামঃ ৫ শতাংশ
৬. লোহাঃ ২০ শতাংশ
৭. ম্যাঙ্গানিজঃ ৭ শতাংশ

মেথি হজম শক্তি বৃদ্ধি করে এবং শরীরের কার্বোহাইড্রেট আর সুগার শোষণ করে নেওয়ার নিয়ন্ত্রণে রাখে। মেথি খাওয়ায় ফলে শরীরের ইনসুলিন(Insulin) নিঃসরণের মাত্রা অনেকগুণ বেড়ে যায়। মেথি রক্তের ইউরিন এবং গ্লুকোজ মাএা কমাতে সাহায্য করে।

কিছু কিছু রিসার্চে দেখা গেছে যে, খাবারে সময় মেথি বিঁচি খেলে খাওয়ার পর পরেই টাইপ-2 ডায়বেটিস রোগিদের চিনির পরিমাণ কমে যায়। তাই, দৈনন্দিন জীবনে ১/২ বার (৫-৫০) গ্রাম মেথির বিঁচি খেলে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, ২.৫ গ্রাম চেয়ে কম মাত্রায় গ্রহণ করলে কোনো কাজ করবে না।

আরও পড়ুন

ব্যবসায় প্রতি মাসে হবে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বেতন কত জানেন কি?

পুরুষের টাক পড়ার কারণ ও করণীয়

এত সুবিধা, তবু কমছে টেলিফোন গ্রাহক

টাইপ-1 ডায়বেটিস জন্য দৈনিক ৫০ গ্রাম মেথি দুই বার গ্রহণ করলে তা প্রস্রাবে চিনির পরিমাণ কমিয়ে দেয়।

মেথি শুধুই যে রক্তের মধ্যে উপস্থিত কলেস্টেরল থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে তা কিন্তু নয়। আপনার শরীরকেও আস্তে আস্তে কলেস্টেরলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। মেথি শরীরের লিপো বা ব্যাড প্রোটিন কমায়।

সারারাত পানিতে ভিজিয়ে পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে খেয়ে নিলে হার্টের ব্যথা বা বুক জ্বালা ও হার্টের বিভিন্ন সমস্যাগুলো কমতে থাকবে। ইনশাআল্লাহ

ওজন কমাতে মেথির উপকারিতা অপরিসীম। মেথি দানা হলো লোহা, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, তামা, ভিটামিন-বিC6, প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন এবং খনিজের এক উৎস। মেথির অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট (anti-oxident) এবং Anti-inflammatory বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান রয়েছে।

এক চামচ মেথি দানা জলের মধ্যে দুই মিনিটের জন্য ফুটিয়ে নিন, পরে ছেঁকে নিয়ে মেথি একটি ব্লেন্ডারে দিয়ে বা পিষে এটিকে পেস্ট বানান এবং মেথির পেষ্টটাকে দিনে দুই বার খেয়ে নিন। ২-৩ মাস অনুসরণ করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনা সম্ভব।

Biology and toxicology” গবেষণায় S. Cavierson বলেছেন, মেথি অ্যালকোহলযুক্ত ক্ষতির বিরুদ্ধে লিভারকে পুরোপুরি রক্ষা করে। দীর্ঘদিন অ্যালকোহল আসক্ত মানুষরা চর্বিযুক্ত লিভার ও ফাইব্রোসিস থাকে যা কোলাজেন সংশ্লেষণের মাধ্যমে একেবারে নির্মূল করা যায়।

লিভার ক্ষমতা বাড়ায়

”Biology and toxicology” গবেষণায় S. Cavierson বলেছেন, মেথি অ্যালকোহলযুক্ত ক্ষতির বিরুদ্ধে লিভারকে পুরোপুরি রক্ষা করে। দীর্ঘদিন অ্যালকোহল আসক্ত মানুষরা চর্বিযুক্ত লিভার ও ফাইব্রোসিস থাকে যা কোলাজেন সংশ্লেষণের মাধ্যমে একেবারে নির্মূল করা যায়।

ত্বকের পরিচর্যার জন্যও মেথি খু্বই প্রয়োজনীয়। মেথির বীজকে কিভাবে নিজের রূপচর্চার গোপন রহস্যকর বানিয়ে তুলবেন তা চটপট ভাবে জেনে নিন।

মেথির এন্টি-ব্যাকটেরিয়াল পদার্থ থাকে, এটি ত্বকের গভীরে মধ্যে যায়। দীর্ঘদিন মেথি (methi) ব্যবহার করলে ব্রণের দাগের হাত থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া যায়।

মেথি হজম শক্তি বৃদ্ধি করে এবং শরীরের কার্বোহাইড্রেট আর সুগার শোষণ করে নেওয়ার নিয়ন্ত্রণে রাখে। মেথি খাওয়ায় ফলে শরীরের ইনসুলিন(Insulin) নিঃসরণের মাত্রা অনেকগুণ বেড়ে যায়। মেথি রক্তের ইউরিন এবং গ্লুকোজ মাএা কমাতে সাহায্য করে।

মেথির বীজে উপস্থিত আছে এন্টি-ব্যাকটেরিয়াল পদার্থ, যা আপনার ব্রণ(acne) নির্মূল করতে সাহায্য করে। শুধুমাএ মেথির দানা আর গরম পানি ব্যবহার করে ব্রণ মুক্ত ত্বক পাওয়া যায়।

আসুন জেনে নেই কিভাবে ব্যাবহার করবো :

১. পরিমাণমতো জল গরম করে তাতে মেথির দানাগুলোকে ফেলে দিন।
২. মেথি গরম পানিতে ১৫ মিনিট ফুটিয়ে নিন।
৩. ঠাণ্ডা হওয়ার পরেই মেথির দানাগুলোর ভেজানো জল তুলো দিয়ে মুখে লাগিয়ে নিন।

বাজারচলতি Anti-aging ক্রিমগুলো ব্যবহার করেও কোনো ফল পাচ্ছেন না? সমাধান লুকিয়ে আছে মেথিতেই। ত্বকের মৃত কোষ তুলে দেবার ক্ষমতা রাখে মেথি। ফলে ত্বক তরুণ বা যৌবন ফিরে পায় ও ত্বক উজ্জ্বল দেখায়।

আসুন জেনে নেই কিভাবে ব্যাবহার করবো :

১.মেথির গুঁড়ো
২. জল
৩. দই
৪. মেথির গুড়ো, জল ও দই একসাথে মিশাবেন। ৫. তারপর সারা মুখে ভালো করে মেথি বা methi পেস্ট লাগিয়ে নিবেন।
৬. ২০ মিনিট পর ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
৭. সপ্তাহে ২ বার করে মেথির গুড়ো পেষ্ট ব্যবহার করুন।

এই ধুলো-দূর্ষণের ফলে চুল (hair) ঝরে যাওয়ার সমস্যায় কম বা বেশি সকলেই ভোগেন। এইসব সমস্যা থেকে চুলকে রক্ষা করতেও মেথির ভূমিকা অপরিসীম।

আসুন জেনে নেই কিভাবে ব্যাবহার করবো

১.মেথি
২. জল
৩. পানির মধ্যেই মেথির দানার গুঁড়ো(powder) মিশান।
৪. মেথির পেস্ট সারা মাথায় বা চুলের গোড়া থেকে আগায় লাগিয়ে দিন।
৫. চুলে মেথির লাগানো পেস্ট ২০ মিনিট ধরে রেখে দিয়ে ভালো করে জল বা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
৬. সপ্তাহে একবার এই পেস্ট ব্যবহার করলেই চুল(hair) হয়ে উঠবে ঘন, সুন্দর ও উজ্জ্বল।

মেথির দানার গুঁড়ো আর জলের পেস্ট খুশকি সমস্যার মুক্তি দিতে একাই যথেষ্ট। মেথির (methi) পেস্ট চুলকে গোড়া থেকে শক্ত এবং খুশকি থেকে মুক্তি দেয়।

আসুন জেনে নেই কিভাবে ব্যাবহার করবো :
মেথির গুঁড়ো ১/২ কাপ
২. জল বা পানি
৩. লেবুর রস
৪. মেথির গুঁড়ো, জল এবং লেবুর রস একসাথে মিশান।
৫. থকথকে পেস্ট বানান।
৬. মাথার আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত ১০/১৫ মিনিট মতো লাগিয়ে রেখে দিন।
৭. মাথা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

অকালে চুল পেকে যাওয়ার হাত থেকে মেথি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মেথিতেই হতে পারে আপনার মুশকিল এই সমস্যার সমাধান।

আসুন জেনে নেই কিভাবে ব্যাবহার করবো

১. মেথির বীজের গুঁড়ো ১ চামচ
২. আমলকির গুঁড়ো
৩. জল বা পানি
৪. মেথির বীজের গুঁড়ো এবং আমলকির গুঁড়ো মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে নিন।
৫. থকথকে পেস্টে জল যোগ করে নিন।
৬. চুলের গোড়া থেকে আগা অবধি লাগিয়ে নিন।
৭. ২০ মিনিটের মতো রেখে নিয়ে চুল ধুয়ে দিন।

শরীরের ভিতরে সোডিয়াম, পটাসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ মৌল থাকে। এগুলো একটা নির্দিষ্ট মাত্রায় মানুষের দেহে থাকা প্রয়োজন। বয়স বাড়ার সাথে এই মাত্রাগুলিও বদলে যেতেই থাকে। সাস্থ ভালো রাখতেও মেথির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই মেথি আমাদের বিভিন্ন কাজে লাগে। মেথির গুরুত্ব অপরীসিম।

Leave a Reply

Your email address will not be published.