ছোট মাছে অসম্পৃক্ত চর্বি আছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। এ ছাড়া আয়রন, প্রোটিন, ফসফরাস, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি২, ফ্যাটি অ্যাসিড, লাইসনি ও মিথিওনিনেরও উৎস ছোট মাছ। ছোট মাছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ থাকে যা রাতকানা, অন্ধ হয়ে যাওয়া ছাড়াও দৈনন্দিন অনেক শারিরীক সমস্যা দূর করতে পারে।

ছোট মাছে আছে-

১. জলীয় অংশ = ৭৫.০ গ্রাম

২. খনিজ পদার্থ = ১.৪ গ্রাম

৩. ক্যালসিয়াম = ১১০ মিলিগ্রাম

৪. প্রোটিন/আমিষ = ১৮.১ গ্রাম

৫. চর্বি/ফ্যাট = ২.৪ গ্রাম

৬. কার্বোহাইড্রেট = ৩.১ গ্রাম

৭. ভিটামিন-সি = ১৫ মিলিগ্রাম

৮. লৌহ বা আয়রন = ১.০ মিলিগ্রাম

৯. এনার্জি = ১০৬ কিলোক্যালরি

ছোট মাছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন-এ থাকে যা রাতকানা, অন্ধ হয়ে যাওয়া ছাড়াও দৈনন্দিন অনেক শারীরিক সমস্যা দূর করতে সক্ষম। শিশুদের রাতকানা রোগ ঠেকাতে ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ মলা, ঢেলা ও গুঁড়া মাছ খাওয়াবেন। দৃষ্টিশক্তির জন্যও গুঁড়া মাছ খুবই উপকারী। যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ গুঁড়া মাছ তাদের ব্ল্যাডপ্রেসার কমাতে সাহায্য করবে।

শিশুদের জন্য প্রোটিন, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন-সি, ভিটামিন বি-৩ এবং ভিটামিন-ডি যুক্ত গুঁড়া মাছ খুবই উপকারী। এগুলো শারীরিক গঠন মজবুত করে।

ছোট মাছে আছে প্রচুর ক্যালসিয়াম। কাঁটাসহ ছোট মাছ ক্যালসিয়ামের এক অনন্য উপাদান। মলা, ঢেলা, চাঁদা, ছোট পুঁটি, ছোট চিংড়ি, কাচকি ইত্যাদি জাতীয় মাছে প্রচুর ক্যালসিয়াম, প্রোটিন এবং ভিটামিন ‘এ’ বিদ্যমান। মানুষের শরীরে দৈনিক প্রচুর ক্যালসিয়ামের চাহিদা থাকে।

আরও পড়ুন

আমলকি এর রয়েছে নানা উপকারিতা

মেথি এর উপকারি দিক

ব্যবসায় প্রতি মাসে হবে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বেতন কত জানেন কি?

বাড়ন্ত শিশু, গর্ভবতী মা এবং প্রসূতি মায়েদের ক্যালসিয়ামের চাহিদা আরও বেশি থাকে। হাড় ও দাঁত গঠনে ক্যালসিয়াম অত্যন্ত দরকারি। তাই প্রতিদিন আমাদের ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ ছোট মাছ খাওয়া উচিত।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খনিজ লবণ সমৃদ্ধ গুঁড়া মাছ উপকারী। হৃদরোগী, স্ট্রোকের রোগী ও গর্ভবতী মা ও দুগ্ধদানকারী মায়ের জন্য গুঁড়া মাছ খুবই উপকারী।

বড় মাছের তুলোনায় ছোট মাছে রয়েছে অনেক গুন পুষ্টি ও শক্তি । ছোট মাছে ফুষ্টি ও শক্তি খুজে বের করে শেষ করা যাবে না । ছোট মাছ চাষ করতে হয় না । এটি খাল বিল নদী নালা পুকুর সব যায়গায় পাওয়া যায় ।

ছোট মাছের প্রজাতিভেদে পুষ্টিগুণঃ

পুঁটি: প্রতি ১০০ গ্রাম পুঁটি মাছে আছে ১০৬ ক্যালরি শক্তি। এর ১৮.১ গ্রাম প্রোটিন, ২.৪ গ্রাম চর্বি, ১১০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম। দাঁত ও হাড়ের গঠনে এটি সাহায্য করে।

ট্যাংরা: ১০০ গ্রাম ট্যাংরা মাছে ১৪৪ ক্যালরি শক্তি মিলবে। এতে প্রোটিন ১৯.২ গ্রাম, চর্বি ৬.৫ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ২৭০ মিলিগ্রাম। আয়রন আছে ২ মিলিগ্রাম। রক্তশূন্যতার রোগীদের ট্যাংরা মাছ খাওয়া উচিত।

মলা: রাতকানা রোগ, ভিটামিন ‘এ’-র স্বল্পতাজনিত চোখের সমস্যা রোধে মলা মাছ খুবই কার্যকর। এতে ক্যালসিয়াম অনেক। ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড আছে এই মাছে, যা হৃদ্‌রোগীদের জন্য ভালো। ১০০ গ্রাম মলা মাছে প্রায় ৮৫৩ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম আছে। আরও আছে ৫.৭ মিলিগ্রাম আয়রন, ভিটামিন ‘এ’ ২০০০ ইউনিট এবং ৩.২ মিলিগ্রাম জিংক।

কাঁচকি মাছ: ১০০ গ্রাম কাচকি মাছে ১২.৭ গ্রাম প্রোটিন আছে। আছে ৩.৬ গ্রাম চর্বি, ৪৭৬ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ২.৮ মিলিগ্রাম আয়রন। এই মাছ কোটারও ঝামেলা নেই, ধুয়ে বেছে খেয়ে নেওয়া যায়।

ফলি: কাঁটাযুক্ত এই মাছের প্রতি ১০০ গ্রামে প্রোটিন ২০.৩ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ১০৩ মিলিগ্রাম, আয়রন ১.৭ মিলিগ্রাম ও ফসফরাস ৪৫০ মিলিগ্রাম।

প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ছোট মাছ রাখুন। পরিবারের সবাই এই খাবারে অভ্যাস গড়ে তুলুন। এতে আপনার পরিবার অনেক রোগ থেকে রেহাই পাবে। ছোটো মাছের অনেক পুষ্টি গুন সমন্ধে জানতে পারা গেলো। তাই ছোটো বড় সবারই ছোটো মাছ খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.